ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে যুক্ত ছিলেন না, আদালতে দাবি AISA নেত্রী নেহা বরার

শান্তি বজায় রাখার জন্য ১০ হাজার টাকার বন্ড দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ; দিল্লি হাইকোর্টে শুনানির পর রায় সংরক্ষিত
নয়াদিল্লি, ২২ অক্টোবর: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আটক হওয়া এবং পরে শান্তি বজায় রাখার বন্ড সংক্রান্ত নোটিস পাওয়ার ঘটনায় আইনি লড়াই আরও জোরদার হয়েছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বরা দিল্লি হাইকোর্টে দাবি করেছেন, ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে CJP-র পৃথক বিক্ষোভের ডাকের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য, তিনি মাণ্ডি হাউসে শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন।
কীভাবে শুরু বিতর্ক?
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর CJP-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ১৬ অক্টোবর ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দেন। ওই দিন মাণ্ডি হাউস থেকে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় নেহা বরাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন, ১৭ অক্টোবর সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নেহার অভিযোগ, তাঁকে আটক করার পর রাতভর হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে শান্তি বজায় রাখার জন্য ব্যক্তিগত বন্ড দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়।
১০ হাজারের বন্ড নিয়ে আদালতে প্রশ্ন
নেহা বরার আবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১২৬ ও ১৩০ ধারার অধীনে তাঁকে নোটিস দেন। নোটিসে তদন্ত চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার জন্য ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের সঙ্গে একজন জামিনদার দেওয়ার নির্দেশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
নেহার আইনজীবীদের বক্তব্য, নোটিসে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কোন নির্দিষ্ট সময়, ঘটনা বা পরিস্থিতিতে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা-ও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি বলে তাঁদের দাবি। আবেদনকারীর মতে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে এ ধরনের পদক্ষেপ বাক্স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে খর্ব করতে পারে।
শুনানিতে কী বলল আদালত?
২২ অক্টোবর বিচারপতি সুব্রহ্মণিয়ম প্রসাদের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। নেহা বরার পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দেন, ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিসটি যথাযথ বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বন্ড দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ধরে নেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আদালত রাজ্যপক্ষকে প্রশ্ন করে, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বন্ডের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না। শান্তি বজায় রাখার বন্ডের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করেছেন, তা-ও আদালত জানতে চায়।
অন্যদিকে, রাজ্যপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, পুলিশি রিপোর্টে সাধারণ ডায়েরির একাধিক এন্ট্রি রয়েছে এবং নোটিস জারির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। নেহার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআরের প্রসঙ্গও আদালতে তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
শুনানি শেষে দিল্লি হাইকোর্ট রায় সংরক্ষিত রেখেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রায় ঘোষণার জন্য শুক্রবার, ২৩ অক্টোবরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও আইনি তাৎপর্য
নেহা বরা ও CJP-র কর্মসূচিকে ঘিরে ঘটনাটি এখন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রতিরোধমূলক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। একদিকে পুলিশ শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথা বলছে, অন্যদিকে নেহা বরা দাবি করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের যথেষ্ট আইনি ভিত্তি নেই।
মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলির। আদালত নোটিসটি খারিজ করবে, নাকি প্রশাসনিক পদক্ষেপ বহাল রাখবে—তা রায় ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।
সূত্র: The Indian Express, Moneycontrol, Bar & Bench।








