মণিপুরে তিন মেইতেই নাগরিক হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য, KNF (N)-এর তিন সক্রিয় ক্যাডার গ্রেফতার।

মণিপুরে তিন মেইতেই নাগরিক হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য, KNF (N)-এর তিন সক্রিয় ক্যাডার গ্রেফতার।

ইম্ফল পূর্বে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার; AK-47, INSAS, M-16 রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, রকেট লঞ্চার ও গ্রেনেড উদ্ধার বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর।

ইম্ফল, ২০ অক্টোবর: মণিপুরে তিন মেইতেই নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় বড়সড় অভিযান চালিয়ে কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট (নুন) বা KNF (N)-এর তিন সক্রিয় ক্যাডারকে গ্রেফতার করল নিরাপত্তা বাহিনী। মঙ্গলবার ইম্ফল পূর্ব জেলার খোনবল তাংখুল গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় CDO-ইম্ফল পূর্ব এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনুলোক পাহাড় এলাকায় মেইতেই গ্রামবাসীদের উপর অতর্কিত হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় তিন মেইতেই নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন হেমিনথাং খংসাই ওরফে লুনথাং থাংবোই (২১), লুংগুনপাও কিপগেন ওরফে লুগুন (২২) এবং সেইলাল হাওকিপ ওরফে অ্যালান (৪৬)। তাঁদের মধ্যে প্রথমজনকে ইম্ফল পূর্ব জেলার এল. চাজাং গ্রামের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে ফাইলেংকোট গ্রামের একটি কালভার্টের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয়। দ্বিতীয়জন সি. জাউলেন, চিনমাং গ্রামের বাসিন্দা এবং তৃতীয়জন লাইকোট চাজাং গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের দুজনকে ফাইলেংকোট গ্রামের ভলিবল মাঠের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

যৌথ অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে একটি AK-47 রাইফেল, একটি INSAS রাইফেল, একটি M-16 রাইফেল, একটি ম্যাগাজিনবিহীন A-1 রাইফেল, চিনে তৈরি একটি AK-47 টাইপ ৮১ রাইফেল, টেলিস্কোপিক সাইট-সহ একটি ৭.৬২ মিমি স্নাইপার রাইফেল এবং একটি Heckler & Koch HK33 রাইফেল।

এ ছাড়াও তিনটি ১২-বোর বন্দুক, একটি লাথোড গান এবং একটি হাতে তৈরি রকেট লঞ্চার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অস্ত্র ও লঞ্চার মিলিয়ে মোট ১২টি উদ্ধার হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।

গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ৭৯২টি INSAS রাউন্ড, ২৬৭টি AK-47 রাউন্ড, ৭.৬২ মিমি-র ১৪টি রাউন্ড, ২০টি ট্রেসার রাউন্ড এবং .৩২ ক্যালিবারের দুটি রাউন্ড। তালিকা অনুযায়ী, মোট ১,০৯৫টি রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে।

গ্রেনেড ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার

অভিযানে একটি TNT স্ল্যাব, তিনটি P.E.K. বিস্ফোরক, প্রায় ৮০০ গ্রাম গানপাউডার, ১৯টি লাথোড শেল, ১১টি পম্পি বোমা এবং তিনটি M-61 রাইফেল গ্রেনেড উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, তিনটি ছোট আকারের হাতে তৈরি মর্টার, তিনটি ডিটোনেটর, একটি ৮১ মিমি মর্টারের খালি খোল, তিনটি ব্যাটারি, একটি গোলাবারুদের বাক্স এবং নয়টি ডাবল-ব্যারেল কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রাইফেলের ম্যাগাজিনও রয়েছে। এর মধ্যে AK-47-এর নয়টি, M-16-এর তিনটি, Heckler & Koch-এর তিনটি, INSAS-এর একটি এবং স্নাইপার রাইফেলের ম্যাগাজিন রয়েছে। এ ছাড়া AR-15-এর একটি ম্যাগাজিন এবং অতিরিক্ত ছয়টি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 যোগাযোগের সরঞ্জাম, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সামগ্রী

 

অস্ত্র ও বিস্ফোরক ছাড়াও চারটি ব্যাটারিসহ রেডিও সেট, ছয়টি হেলমেট, একটি ইউনিফর্ম, একটি UBGL পাউচ, চার জোড়া জুতো এবং একটি মনোকুলার উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় তিন কেজি পোস্তগাছের বীজ এবং বিভিন্ন পরিচয়পত্র ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে একটি নকল আধার কার্ড, একটি শ্রমিক কার্ড, কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের একটি কার্ড, একটি ভোটার কার্ড, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি প্যান কার্ড এবং একটি SBI এটিএম কার্ড রয়েছে। এ ছাড়া তিনটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

সুনুলোক হামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

সুনুলোক পাহাড় এলাকায় মেইতেই গ্রামবাসীদের উপর হামলায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মণিপুরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তের মধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার এবং বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের দাবি সামনে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযান তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তা পরবর্তী তদন্তে স্পষ্ট হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!