মণিপুরে ফের রক্তপাত, তিন মেইতেই নাগরিকের মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন INDIA ব্লক

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বিরোধী প্রতিনিধি দলের, সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি; ‘দিন দিন বাড়ছে নৃশংসতা, আর কতদিন এভাবে চলবে?’
ইম্ফল, ২০ অক্টোবর: ফের হিংসার আগুনে উত্তপ্ত মণিপুর। অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র হামলাকারীদের গুলিতে তিন মেইতেই নাগরিকের মৃত্যু এবং আরও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল বিরোধী INDIA ব্লক। মঙ্গলবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ওকরাম ইবোবি সিংয়ের নেতৃত্বে বিরোধী প্রতিনিধি দল মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে। ক্রমাগত হিংসা ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবিও জানায় প্রতিনিধি দল।

সোমবারের ভয়াবহ হামলার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
‘আর কতদিন এভাবে চলবে?’ — সরব ইবোবি সিং

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিং রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিন মানুষ খুন হলে আর কতদিন এভাবে চলতে পারে? পরিস্থিতির মোকাবিলায় শুধু আশ্বাস যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সম্মিলিত রাজনৈতিক উদ্যোগ এবং কার্যকর পদক্ষেপ।
ইবোবি সিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে ছিলেন কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা তথা বিধায়ক কে মেঘচন্দ্র সিং, লোকসভা সাংসদ অ্যাঙ্গোমচা বিমল আকোইজাম, বিধায়ক ওকরাম সূর্যকুমার-সহ INDIA ব্লকের বিভিন্ন দলের নেতারা। প্রতিনিধি দলটি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো

কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা, প্রাণ গেল তিনজনের
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ইম্ফল পূর্ব জেলার নোংশুম ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন একদল মেইতেই গ্রামবাসী। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, কাঠ সংগ্রহ করে গাড়িতে তোলার সময় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র হামলাকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আরও তিনজন আহত হন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
নিহতদের দেহ ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানান ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে দেহগুলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি, শান্তি ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে INDIA ব্লক রাজ্যে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। বৈঠকে রাজ্যে শান্তি ফেরানো, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সর্বদলীয় বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
মণিপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আবারও সামনে এনেছে এক কঠিন প্রশ্ন—সাধারণ মানুষ কতদিন এমন অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাবেন? কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের মৃত্যু শুধু কয়েকটি পরিবারের জীবনে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেনি, রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং হিংসার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: NDTV, Hindustan Times ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ১৯–২০ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন।








