পুজো দেখতে কলকাতায় এসে চোরবাগানে স্বামী-সন্তানকে হারালেন বিহারের মহিলা।

পুজো দেখতে কলকাতায় এসে চোরবাগানে স্বামী-সন্তানকে হারালেন বিহারের মহিলা।

কলকাতা, ১৯ অক্টোবর: দুর্গাপুজো দেখতে কলকাতায় এসেছিলেন সপরিবারে। মনে ছিল উৎসবের আনন্দ, ঠাকুর দেখার স্বপ্ন। কিন্তু সেই আনন্দই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হল এক মর্মান্তিক দুঃস্বপ্নে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় চোখের সামনে স্বামী ও সাত বছরের শিশুপুত্রকে হারালেন বিহারের বাসিন্দা নীহারানি দেবী। কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও স্বামী-সন্তানকে হারানোর শোক তাঁকে কার্যত বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের বাসিন্দা অভিষেক শ্রীবাস্তব তাঁর স্ত্রী নীহারানি দেবী ও সাত বছরের ছেলে আয়ন শ্রীবাস্তবকে নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে দুর্গাপুজো উপভোগ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। শনিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পৌঁছেছিলেন চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে। কিন্তু কে জানত, এই সফরই তাঁদের জীবনে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে!

📍বৃষ্টির মধ্যে হুড়োহুড়ি, বাড়তে থাকে ভিড়ের চাপ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান মণ্ডপের বাইরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় জমেছিল। সেই সময় বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। সরু পথে বেরোনোর চেষ্টা এবং ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরই মধ্যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।

নীহারানি দেবীর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁরা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু গেটের দু’দিক থেকে ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। তিনি নিজে মাটিতে পড়ে যান। তাঁর স্বামী ও শিশুপুত্রও পড়ে যায় ভিড়ের মধ্যে। অসহায় অবস্থায় তিনি বারবার তাঁদের বাঁচানোর আকুতি জানালেও শেষ পর্যন্ত স্বামী ও সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।

📍 বেঁচে ফিরলেন মা, রইল শুধু শোক

ভিড় কিছুটা কমার পর নীহারানি দেবীকে মণ্ডপ থেকে বের করে আনা হয়। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান দুই মানুষকে হারিয়েছেন তিনি। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যু যেন এক নিমেষে তাঁর গোটা পৃথিবীকে তছনছ করে দিয়েছে।

যে পরিবার কলকাতায় এসেছিল উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে, সেই পরিবারেই নেমে এল মৃত্যুর ছায়া। দুর্গাপুজোর আলো, মানুষের উচ্ছ্বাস আর উৎসবের আবহের মাঝেই এক মায়ের কোল শূন্য হয়ে গেল। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে কীভাবে তিনি এই শোক সামলাবেন, তার কোনও উত্তর নেই।

নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন:

চোরবাগানের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যু ও বহু দর্শনার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ সংকীর্ণ এলাকায় জমায়েত হলেন, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং বিপদের মুহূর্তে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উৎসবের আনন্দে মানুষের ঢল নামলেও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কোনও পুজো কমিটি ও প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। চোরবাগানের এই ঘটনা সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ত্রুটি ও প্রস্তুতির ঘাটতি খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা আরও সামনে এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!