দেবীপক্ষের প্রাক্কালে জনতা কলেজে ‘নারীশক্তি’ বিষয়ক দেওয়াল পত্রিকা উন্মোচন।

মহাশ্বেতা দেবীর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে নারীজাগরণের বার্তা, পড়াশোনায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদন : দেবীপক্ষের প্রাক্কালে নারীশক্তির বহুমাত্রিক প্রকাশকে সামনে রেখে জনতা কলেজের শহিদ কনকলতা বড়ুয়া হাউসের উদ্যোগে উন্মোচিত হল বিশেষ দেওয়াল পত্রিকা। ‘নারীশক্তি’ বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজানো এই দেওয়াল পত্রিকায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি, সংগ্রাম ও ক্ষমতায়নের দিকগুলি প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

দেওয়াল পত্রিকাটির উদ্বোধন করেন কলেজের জিবি প্রেসিডেন্ট মোহন সিংহ, অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস পাল এবং উপাধ্যক্ষা সুজাতা পালিত। দেওয়াল পত্রিকায় দশভূজার প্রতীকী চিত্রের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা ও অগ্রগতির নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এবারের দেওয়াল পত্রিকার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের প্রচ্ছদ অঙ্কণ ও প্রদর্শন। ‘হাজার চুরাশির মা’, ‘স্তনদায়িনী’, ‘বায়েন’, ‘রুদালী’ এবং ‘দ্রৌপদী’-সহ নারী ও সমাজকেন্দ্রিক একাধিক সাহিত্যকর্মের প্রচ্ছদ সেখানে তুলে ধরা হয়। তাঁর সাহিত্যকর্মে নারী নির্যাতন, শোষণ, সামাজিক বৈষম্য এবং তার বহুমাত্রিক প্রতিফলন যেভাবে উঠে এসেছে, দেওয়াল পত্রিকার মাধ্যমে তারই একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই বিষয় নির্বাচনের পিছনে ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ও সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর বিশেষ উদ্দেশ্য। শহিদ কনকলতা বড়ুয়া হাউসের মেন্টর ড. সুদীপ্তা খেরসা ও ড. পিনাকী দাসের পরিকল্পনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁদের লক্ষ্য, মোবাইলনির্ভর বর্তমান সময়ে বই থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ফের বই পড়ার দিকে আকৃষ্ট করা।

মেন্টরদের বক্তব্য, একজন শিক্ষার্থী যদি এই দেওয়াল পত্রিকার মাধ্যমে অন্তত মহাশ্বেতা দেবীর পাঁচটি বইয়ের নাম জানতে পারে এবং সেই বইগুলি পড়ার আগ্রহ অনুভব করে, তাহলেই এই উদ্যোগ সার্থক হবে।

দেওয়াল পত্রিকার চিত্রগুলি এঁকেছেন FYUG পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র পিত্রাশিস সিনহা এবং HS প্রথম বর্ষের ছাত্র চিরঞ্জিত রায়। তাঁদের সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করতে কলেজের জিবি প্রেসিডেন্ট ও অধ্যক্ষ তাঁদের হাতে উপহার তুলে দেন।
দেবীপক্ষের আবহে নারীশক্তির বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি সাহিত্য, শিল্প ও বই পড়ার অভ্যাসকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলার এই উদ্যোগ কলেজের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন বলে মনে করা হচ্ছে।








