চম্পাই থেকে চুরি, অসম–মিজোরাম সীমান্তে ধরা পড়ল R15
চেকপোস্টে তৎপরতায় উদ্ধার চুরি যাওয়া বাইক, চম্পাইয়ের মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিল পুলিশ
ধলাই, ৪ অক্টোবর: মিজোরামের চম্পাই থেকে চুরি যাওয়া একটি R15 মোটরসাইকেল অসমে প্রবেশের আগেই অসম–মিজোরাম সীমান্তের ধলাখাল চেকপোস্টে আটক করে উদ্ধার করা হয়েছে। চেকপোস্টে কর্তব্যরত কর্মীদের তৎপরতা, ধলাই থানার পুলিশের ভূমিকা এবং স্থানীয় যুবকের সহযোগিতায় বাইকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে মোটরসাইকেলটি চম্পাইয়ের প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ৩ অক্টোবর ভোর প্রায় ৬টা নাগাদ MZ-01X-7383 নম্বরের R15 মোটরসাইকেলটি মিজোরামের সাইফাই এর দিক থেকে দ্রুতগতিতে ধলাখাল চেকপোস্টের দিকে আসে। কর্তব্যরত কর্মীরা থামার সংকেত দিলেও বাইকটি না থামিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় যুবক রাজা বর্মন বাইকটির পিছু নেন। পরে মোটরসাইকেলটি আটক করা সম্ভব হলেও চালক ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরোহী পালিয়ে যায়।
এরপর মোটরসাইকেলটির নম্বর ও মালিকানার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, বাইকটি ২ অক্টোবর রাতে মিজোরামের চম্পাই এলাকা থেকে চুরি হয়েছিল। এ ঘটনায় মিজোরামের ভিভিকে থানায় জিডি নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে চম্পাইয়ের বাসিন্দা ও মোটরসাইকেলটির প্রকৃত মালিক লালরিনথাঙ্গা ধলাইখাল বিওপিতে উপস্থিত হন। নথিপত্র ও মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ধলাই থানার অফিসার-ইন-চার্জ সর্বেশ্বর কুওর, সাব-ইন্সপেক্টর অভিনাশ বর্মন এবং স্থানীয় যুবক রাজা বর্মনের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে অসম–মিজোরাম আন্তঃরাজ্য সীমান্তের নিরাপত্তা ও নজরদারির দিক থেকে। চম্পাই থেকে চুরি যাওয়ার পর মোটরসাইকেলটি সীমান্তের দিকে চলে আসে। তবে ধলাখাল চেকপোস্টে তল্লাশি ও নজরদারির কারণে অসমে প্রবেশের আগেই সেটি আটক করা সম্ভব হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মিজোরাম থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অসমের সীমান্তপথ ব্যবহার করে অন্যত্র পাচারের অভিযোগ সামনে আসায় এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বাইকটির সূত্র ধরে চম্পাই থেকে ধলাই সীমান্ত পর্যন্ত চুরির নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে কোনও আন্তঃরাজ্য চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে মোটরসাইকেল উদ্ধার হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা এখনও অধরা। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং সীমান্তপথে সক্রিয় সম্ভাব্য চক্রের হদিস বের করাই এখন পুলিশের কাছে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।






