লক্ষ্মীপুর সমজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নালিশ।

লক্ষ্মীপুর সমজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নালিশ।

লক্ষ্মীপুর, ১০ অক্টোবর: লক্ষ্মীপুর সমজেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও কর্মীদের নিয়মিত সদর দফতরে উপস্থিতি, সরকারি দায়িত্ব পালন এবং সাধারণ নাগরিকদের পরিষেবা প্রদান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে অসম সরকারের পার্সোনেল বিভাগের কমিশনার ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন পয়লাপুলের বাসিন্দা রাকেশ সিং। নিজেকে আরটিআই কর্মী ও সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাকেশ অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রের একটি প্রতিলিপি মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল প্রাইভেট সেক্রেটারির কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো অভিযোগপত্রে রাকেশ সিং উল্লেখ করেন, রাজ্য সরকার সমজেলা আয়ুক্তদের নিজ নিজ প্রশাসনিক এলাকায় পূর্ণ সময় দিয়ে কাজ করার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পার্সোনেল বিভাগের কমিশনার-সচিব বীরেন্দ্র মিত্তাল এ বিষয়ে একটি নির্দেশ জারি করেন।

অভিযোগপত্রে উদ্ধৃত নির্দেশ অনুযায়ী, সমজেলা আয়ুক্তদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকরা সমজেলার বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব সাধারণভাবে অর্পণ করতে পারবেন না। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এ ধরনের দায়িত্বের জন্য রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট অনুমতি প্রয়োজন বলেও নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

আয়ুক্তের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

রাকেশ সিংয়ের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্মীপুর সমজেলা আয়ুক্ত ধ্রুবজ্যোতি পাঠক নিয়মিত সদর দফতরে উপস্থিত থাকেন না। তাঁর দাবি, আয়ুক্তকে প্রায়ই শিলচরে দেখা যায় এবং সেখানে লক্ষ্মীপুর সমজেলার বাইরের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কাজ সামলাতে হয়। এমনকি তিনি শিলচরে অবস্থান করে নিজের সুবিধা অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরে আসেন বলেও অভিযোগ করেছেন রাকেশ।

তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। অভিযোগকারী নিজেই সরকারি বায়োমেট্রিক উপস্থিতির নথি-সহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পরীক্ষা করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণের আবেদন জানিয়েছেন।

অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

সমজেলা আয়ুক্তের পাশাপাশি কার্যালয়ের অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেসি অফিসার, শাখা আধিকারিক এবং সিনিয়র ও জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্টদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

রাকেশ সিংয়ের আরও দাবি, লক্ষ্মীপুর সমজেলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত কয়েকজন আধিকারিক ও শাখা নিজেদের দায়িত্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিলচর থেকে পালন করছেন। এর ফলে সমজেলা স্তরে প্রশাসনিক কাজের গতি ও পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ

অভিযোগপত্রে সাধারণ মানুষের হয়রানির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রাকেশ সিংয়ের দাবি, বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ ও নিয়মিত সরকারি পরিষেবা পেতে সমজেলা কার্যালয়ে আসা নাগরিকদের অনেক সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য বা সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তাঁদের বারবার কার্যালয়ে আসতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, সরকারি দফতরে আধিকারিকদের উপস্থিতি, নাগরিকদের প্রতি সৌজন্য এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে দেখা উচিত।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক উপস্থিতির নথি, দায়িত্ব বণ্টনের সরকারি নির্দেশ, দাপ্তরিক রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরীক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন রাকেশ সিং। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর সমজেলায় নিযুক্ত সমস্ত আধিকারিক ও কর্মীকে নির্ধারিত কর্মসময় অনুযায়ী নিজেদের সদর দফতরে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সমজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

এখন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে এবং সরকারি নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

DOC-20260927-WA0018

e.o._full-fledged_and_effective_functioning_of_co-districts

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!