মণিপুরের কাংপোকপিতে সশস্ত্র হামলা, পুড়ে ছাই ৪১টি নাগা বাসিন্দাদের বাড়ি।

মাকুই এলাকায় ভোররাতে গুলির শব্দ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, আতঙ্কে ঘরছাড়া বহু বাসিন্দা।
কাংপোকপি, ২৪ সেপ্টেম্বর: মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় নাগা অধ্যুষিত এলাকায় ফের সশস্ত্র হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে মাকুই এলাকার একাধিক নাগা গ্রামে হামলার পর বহু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার আশঙ্কায় বহু বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ মাকুই চামরুইপিউ, লাংকা ও থানাম্বা এলাকায় একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের একাংশ জঙ্গল ও আশপাশের নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নেন।
কাংপোকপি জেলার চাওয়া পুলিশ স্টেশনের আওতাধীন মাকুই থানাম্বা ও মাকুই চামরুইপিউ গ্রামে অন্তত *২৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার* খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মাকুই এলাকার অন্যান্য গ্রাম মিলিয়ে মোট ৪১টি নাগা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা পুড়ে যাওয়ার দাবি উঠেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত সংখ্যা প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
মাকুই ভিলেজ অথরিটির অভিযোগ, হামলায় KNF(P), KNF(N) এবং KRA-র সশস্ত্র সদস্যরা জড়িত ছিল। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।
এদিকে একই সময়ে নোনি জেলার কাপনিংচিং মুক্তি পার্ট-৫ এলাকাতেও কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। তাজেইকাইফুন পার্ট-৩ এলাকায় একটি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঙ্কারে হামলার পর নিরাপত্তারক্ষী ও হামলাকারীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াই হয় বলে পুলিশ-ভিত্তিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে বেসামরিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার জেরে কাংপোকপি-নোনি সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাকুই ভিলেজ অথরিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ, এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর স্থায়ী মোতায়েন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের** দাবি জানিয়েছে।








