মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অভিযানে দক্ষিণ কাছাড়জুড়ে পুলিশের ধরপাকড়, ১৪ জন গ্রেফতার। জেলায় ২৭

২৭ অক্টোবর: অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কঠোর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনের বিধান বাস্তবায়নে প্রশাসন যেমন এক চুলও জমি ছাড়তে নারাজ, তেমনই দক্ষিণ কাছাড়ে এই অভিযানের ইতিবাচক ফলের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপরাধ মানুষের হয়রানি নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সমগ্র রাজ্যজুড়ে এই অভিযানে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কাছাড়ের চারটি থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট ১৪ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে। তবে আইন ও সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণের এই পদক্ষেপ প্রশংসিত হলেও, কোনো যাচাই ছাড়াই সন্দেহের বশে নিরপরাধ ব্যক্তিদের রাতভর থানায় আটকে রাখা এবং পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ কাছাড়ের পুলিশ প্রশাসন সূত্রের খবর, বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত পুরনো নথি ও খতিয়ান পুনর্নিরীক্ষণ করে মঙ্গলবার দিনভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে সোনাই থানায় সর্বাধিক ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ধলাই থানায় ৩ জনকে আটক করা হয়। কচুন্দরম থানায় ১ জন জালে ধরা পড়েছে। পালংঘাট থানায় ১ জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত এই ১৪ জনকেই মঙ্গলবার নির্দিষ্ট আইনি ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত ধৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করেনি জেলা পুলিশ প্রশাসন, যা নিয়ে কৌতূহল ও অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার কড়াকড়ির মধ্যেই উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক অভিযোগ। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের নামে কেবল প্রকৃত অপরাধীই নয়, বরং বহু স্থানে সঠিক তদন্ত বা যাচাই ছাড়াই শুধুমাত্র ‘সন্দেহের’ বশে একাধিক সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত থানায় তাদের আটকে রেখে জেরা করার পর অভিযোগের কোনো সত্যতা না পেয়ে শেষমেশ তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তথ্যের অভাবের কারণে অনেক নিরাপরাধ ব্যক্তি ও পরিবার যে অনাবশ্যক মানসিক ও সামাজিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, তা স্পষ্ট। লোকলজ্জা এবং প্রশাসনিক চাপের ভয়ে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে সাহস না পেলেও, তল্লাশি ও আটকের এই খামখেয়ালি পদ্ধতি নিয়ে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য অভিশাপ এ কথা স্বীকার করে সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিক মহল ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অভিযানের নামে যেন কোনো আইন মান্যকারী সাধারণ নাগরিকের মর্যাদা ক্ষুন্ন না হয়। অভিযোগ তোলার আগে প্রাথমিক সত্যতা যাচাই, তদন্তের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রস্তুত করা এবং কেবল পোক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই আটক করার মতো আইনি নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। যথাযথ তদন্ত ছাড়াই সাধারণ মানুষকে হুটহাট থানায় তুলে আনার এই প্রবণতা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।








