ধর্মনগরে এবিভিপির বিক্ষোভ, বিজেপির বিধায়ক-পত্নীর কুশপুত্তলিকা দাহ।

ধর্মনগরে এবিভিপির বিক্ষোভ, বিজেপির বিধায়ক-পত্নীর কুশপুত্তলিকা দাহ। ছাত্রনেতার বাবার ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ১২ ঘণ্টার সময়সীমা


দ্য বরাক লাইভ ২৪,, ২৪ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার ধর্মনগরে এক এবিভিপি ছাত্রনেতার বাবার ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ধর্মনগর ডিএম অফিস চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপির ছাত্রছাত্রীরা। বিক্ষোভ চলাকালীন ধর্মনগরের বিধায়ক তথা রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন **বর্ণালী গোস্বামীর কুশপুত্তলিকা দাহের** ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত ধর্মনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এবিভিপির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। সংগঠনের অভিযোগ, কলেজে শিক্ষক সংকট, পানীয় জলের অভাবসহ একাধিক সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চালানো হচ্ছে।

অভিযোগ, কলেজের একটি অনুষ্ঠানে বর্ণালী গোস্বামী উপস্থিত হলে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেয়। বিষয়টি নিয়ে কলেজ চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এরপর গত রাতে এক এবিভিপি ছাত্রনেতার বাবার ওপর একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এবিভিপির দাবি, কলেজের আন্দোলনের জেরে ওই ছাত্রনেতার বাবাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা।

অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে ধর্মনগর ডিএম অফিস চত্বরে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। একপর্যায়ে রাজপথ অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের মধ্যেই বর্ণালী গোস্বামীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এক এবিভিপি ছাত্রনেতার বক্তব্য, কলেজের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করার কারণেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনকে **১২ ঘণ্টার সময়সীমা** দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএম অফিস চত্বরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর ধর্মনগর থানার ওসি **মিঞা দেববর্মা** ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়ার পর সাময়িকভাবে পথ অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।

তবে ছাত্রনেতার বাবার ওপর হামলার অভিযোগের প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত এবং ঘটনার সঙ্গে কলেজের আন্দোলনের সরাসরি কোনো যোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখনও তদন্তসাপেক্ষ। একইসঙ্গে কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনাতেও সংগঠনের পক্ষ থেকে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে একই রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভে দলের বিধায়ক-পত্নীর কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মনগরের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Src: Local News:Sahasi Kantho

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!