ইম্ফল পূর্বে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র, গোলাবারুদ ও গ্রেনেড উদ্ধার।

MN Sector QAT, CRPF ও ইম্ফল ইস্ট CDO-র অভিযান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেওয়া হল থানায়
ইম্ফল, ২৬ অক্টোবর: মণিপুরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে ফের বড়সড় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে এল। সোমবার, ২৬ অক্টোবর ইম্ফল পূর্ব জেলার বংবাল খোলেন পাহাড়ের পাদদেশে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, MN Sector QAT ও Range Imphal QAT-এর দল, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) এবং ইম্ফল ইস্টের CDO-র যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, পিস্তল, বন্দুক, হ্যান্ড গ্রেনেড, রাইফেল গ্রেনেড, পম্পি শেল, ওয়্যারলেস সেট এবং বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। কী কী অস্ত্র ও সামগ্রী উদ্ধার?

অভিযানে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে—
* একটি A1 রাইফেল, সঙ্গে একটি ম্যাগাজিন।
* একটি .303 LMG।
* একটি ৯ মিমি পিস্তল, সঙ্গে একটি ম্যাগাজিন।
* দুটি ১২-বোর ডাবল-ব্যারেল বন্দুক।
* তিনটি ১২-বোর সিঙ্গল-ব্যারেল বন্দুক।
* একটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৯ মিমি পিস্তল, সঙ্গে ম্যাগাজিন।
* ডেটোনেটরবিহীন তিনটি নং ৩৬ হ্যান্ড গ্রেনেড।
* একটি চীনা হ্যান্ড গ্রেনেড।
* একটি MG-2 রাইফেল গ্রেনেড।
* একটি পম্পি শেল।
* একটি চার্জার-সহ চারটি ওয়্যারলেস রেডিও সেট।
* বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ।
থানায় হস্তান্তর উদ্ধার হওয়া সামগ্রী
অভিযানে উদ্ধার হওয়া সমস্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য থৌবল ড্যাম থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্রের উৎস, সেগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এগুলির যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ উদ্ধার
মণিপুরের ইম্ফল পূর্ব জেলার পাহাড়ি এলাকায় এই বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তার দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযান অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কারা মজুত করেছিল, সেগুলি কোনও সংঘর্ষ বা হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না এবং এর পিছনে কারা রয়েছে—এসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। তদন্তের পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।








