কলকাতায় মধ্যযুগীয় বর্বরতা: নাবালিকাকে চুম্বনের ঘটনায় যুবক, বাবা ও বন্ধুকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতায় মধ্যযুগীয় বর্বরতা: নাবালিকাকে চুম্বনের ঘটনায় যুবক, বাবা ও বন্ধুকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতা | ২৭ অক্টোবর ২০২৬:
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বেহালার সরসুনা এলাকায় এক নাবালিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১৮ বছরের এক যুবক, তাঁর বাবা এবং ১৯ বছরের এক বন্ধুকে মারধর করে বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। রবিবার, ২৫ অক্টোবরের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার নাবালিকার বাবা, মা ও মামাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরসুনার খুদিরাম পল্লি এলাকার খালপাড় মাঠের কাছে ১৮ বছরের যুবক তাঁর ১৩ বছরের বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১৯ বছরের এক বন্ধু। অভিযোগ, তাঁদের কথাবার্তার সময় যুবকটি নাবালিকাকে চুম্বন করেন। ঘটনাটি নাবালিকার মামার এক পরিচিতের নজরে পড়লে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।
এরপর নাবালিকার বাবা ও মামা দুই যুবককে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁদের আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পরে ওই যুবকের বাবাকেও ডেকে পাঠানো হয়।

যুবকের বাবার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাঁকেও মারধর করা হয়। এমনকি ছেলেকে গুলি করে অথবা গরম করা ছুরি দিয়ে হত্যা করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রস্তাবে রাজি না হলে তাঁকে ছেলে ও ছেলের বন্ধুর সঙ্গে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দুক দেখিয়ে তিনজনকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয় এবং বাড়ির সামনের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে প্রায় ৫০ মিটার নগ্ন অবস্থায় হাঁটানো হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, যুবকের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সরসুনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। খুনের চেষ্টা, গুরুতর আঘাত, বেআইনি আটক, অপহরণ, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং অন্যান্য অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন নাবালিকার বাবা, মা এবং মামা। অন্য অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, আক্রান্তদের বন্দুক দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ এখনও ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুই যুবকের মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন বাসিন্দা অভিযুক্ত পরিবারের বাড়িতে ভাঙচুর চালান বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারে দেরির অভিযোগ উঠলেও পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!