নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনকে সমর্থন করে ভুল হয়েছিল, স্বীকারোক্তি জগন রেড্ডির।

“পরীক্ষার্থী নিজে পরীক্ষক নিয়োগ করতে পারে না”—নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইন সংশোধনের দাবি অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর
নয়াদিল্লি, ১৯ অক্টোবর: একসময় নরেন্দ্র মোদি সরকারের আনা নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত সংশোধিত আইনকে সমর্থন করেছিল তাঁর দল। কিন্তু এবার সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই অনুশোচনা প্রকাশ করলেন ওয়াইএসআর কংগ্রেসের প্রধান তথা অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা জরুরি, যাতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কোনও প্রশ্ন না ওঠে।
২০২৩ সালে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে। সংশোধিত ব্যবস্থায় নিয়োগ কমিটিতে ভারতের প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই কমিটিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
সেই সময় জগন রেড্ডির দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস সংসদে সংশোধিত আইনকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের দলের সেই অবস্থান নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
📍‘পরীক্ষার্থী নিজে পরীক্ষক নিয়োগ করতে পারে না’
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জগন রেড্ডি বলেন, “পরীক্ষার্থী নিজে পরীক্ষক নিয়োগ করতে পারে না।” তাঁর যুক্তি, কোনও নির্বাচন কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে সৎ হলেও তাঁকে নিয়োগের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ না হলে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
জগন রেড্ডির মতে, নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখা গণতন্ত্রের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন সরকারের একক প্রভাব কমিয়ে একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
📍 নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের দাবি
জগন রেড্ডি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য এমন একটি কমিটি গঠন করা উচিত, যেখানে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি থাকবেন। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের আস্থা বাড়তে পারে।
শুধু জাতীয় নির্বাচন কমিশন নয়, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা চালুর পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের ত্রুটি সংশোধন করা জরুরি।
📍 ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক
বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে জগন রেড্ডির বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একসময় যে আইনকে তাঁর দল সমর্থন করেছিল, এখন সেই আইন সংশোধনের দাবিতে সরব হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে জগন রেড্ডির বক্তব্যের মূল সুর, নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা শুধু বাস্তবে বজায় থাকলেই হবে না, সাধারণ মানুষের কাছেও তা বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে।
*সূত্র: এবিপি আনন্দ, এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে।*








