দুর্গাপুজোর আবহে নগাঁওর বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান, ঘরছাড়া বহু পরিবার।

দুর্গাপুজোর আবহে নগাঁওর বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান, ঘরছাড়া বহু পরিবার।

নগাঁওয়ে বনভূমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপ, ভাঙা হয়েছে বসতবাড়ি; পুনর্বাসন ও জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ

নগাঁও, ১৮ অক্টোবর: একদিকে রাজ্যজুড়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে ঘর হারানোর যন্ত্রণা। উৎসবের আবহের মধ্যেই অসমের নগাঁও জেলার বরপানী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় বহু পরিবার আশ্রয় ও ভবিষ্যৎ জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, বরপানী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসবাসকারী ৩৩৬টি পরিবারকে প্রায় ২১৬ হেক্টর বনভূমি খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বনভূমি দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, উচ্ছেদের ফলে তাঁদের দীর্ঘদিনের বসতভিটা ও জীবিকার অবলম্বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও গাছপালা কাটা হয়েছে, কোথাও চাষের জমির ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে কতগুলি বাড়ি ভাঙা হয়েছে, কতটা কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে কতজন মানুষ আশ্রয়হীন, তার পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান এখনও স্পষ্ট নয়।

উপনির্বাচনের পর উচ্ছেদ ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা:

নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই বরপানীসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান চলায় বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে এই অভিযানকে ঘিরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তবে উপনির্বাচনের ফলাফল এবং উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই অভিযানের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা থাকলেও, বিষয়টিকে নিশ্চিতভাবে নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া বলে চিহ্নিত করার অবকাশ নেই।

বনভূমি রক্ষা, না পুনর্বাসন—প্রশ্নের মুখে প্রশাসন:

সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখলমুক্ত করা প্রশাসনের ঘোষিত উদ্দেশ্য হলেও, উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন, বিকল্প আশ্রয় এবং জীবিকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনও এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলির ক্ষেত্রে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ, নথিপত্র যাচাই এবং প্রযোজ্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ঘর হারানো পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ কী? বনভূমি সংরক্ষণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানবিক পরিস্থিতির দিকেও প্রশাসন নজর দেবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বনভূমি রক্ষার অভিযান চললেও ঘর হারানো পরিবারগুলির আশ্রয়, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।

#AssamNews #Nagaon #BorpaniForest #EvictionDrive #Assam #BarakValley

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!