কাবুগঞ্জ জনতা কলেজে শারদীয় উৎসব ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’,

নাচে-গানে মাতল বাংলা বিভাগ
কাবুগঞ্জ, ৯ অক্টোবর: মহালয়ার প্রাকলগ্নে দেবীপক্ষের আগমনী সুরে মুখরিত হয়ে উঠল কাবুগঞ্জের জনতা কলেজ। কলেজের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হল শারদীয় উৎসব ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস পাল-সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. সুপ্রবীর দত্ত রায়।

নাচে-গানে জমজমাট এই আয়োজনে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশ। রাত পোহালেই মহালয়া—দেবীপক্ষের সূচনার এই বিশেষ মুহূর্তকে সামনে রেখে কলেজ প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে শারদীয় আবহ। অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস পাল এবং আমন্ত্রিত অতিথি ড. সুপ্রবীর দত্ত রায় তাঁদের মূল্যবান বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আগমনী সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। ইংরেজি বিভাগের প্রধান ড. মুণ্ণি দেবমজুমদার এবং বাংলা বিভাগের প্রধান ড. সুদীপ্তা খেরসা আগমনী গান পরিবেশন করেন। বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা ড. পিনাকী দাসের আগমনী নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। অন্যদিকে, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক কুসুমানন্দ নাথ তাঁর বক্তব্যে নারীশক্তির বিশেষত্ব ও তাৎপর্যের দিকটি তুলে ধরেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সুনয়না সিনহা, বর্ণিতা পাল, সুহানী রায়, সিমি সিনহা, সানি দত্ত, দেবমিতা পাল, সৌরভ চক্রবর্তী, অনামিকা রায়, স্নেহা পাল, সিপন রুদ্র পাল, মধুছন্দা নাথ-সহ আরও অনেকে। তাঁদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এদিনের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে দুর্গাপ্রতিমার কাঠামো নির্মাণ। দুর্গার ভূমিকায় অতিথি শিক্ষক দীপা সিনহা, সরস্বতীর ভূমিকায় রিয়া সিনহা, কার্তিকের ভূমিকায় সমরজিৎ সিনহা, গণেশের ভূমিকায় চিরঞ্জিৎ রায়, লক্ষ্মীর ভূমিকায় বর্ণালী রায় এবং অসুরের ভূমিকায় তন্তুজ নাথ অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে উৎসবের পরিবেশ আরও বর্ণময় হয়ে ওঠে।

সমগ্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিচালনা ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ড. পিনাকী দাস। বৈদ্যুতিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন মিঠু নাথ, অনুভব দত্ত এবং সায়ন শ্যাম।

সব মিলিয়ে, জনতা কলেজের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’ শারদীয় উৎসব ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক চেতনার এক সুন্দর মেলবন্ধন গড়ে তোলে।








