রক্তদানের পর রক্তদাতাকে কেমিক্যালযুক্ত প্যাকেটজাত মেয়াদোত্তীর্ণ জুস! শিলচর মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে রক্তদাতার অভিযোগ। অধ্যক্ষের কাছে মৌখিক নালিশ, তদন্তের দাবি।

শিলচর: স্বেচ্ছায় রক্তদান করার পর রক্তদাতাকে মেয়াদোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত জুস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তদাতাদের নিরাপত্তা, রিফ্রেশমেন্টের মান এবং ব্লাড ব্যাংকের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী **জুনাইদ আহমদ লঙ্কর** জানান, গত **২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬** তিনি শিলচর মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। রক্তদানের পর তাঁকে রিফ্রেশমেন্ট হিসেবে একটি প্যাকেটজাত জুস দেওয়া হয়। জুসের প্যাকেট পরীক্ষা করতে গিয়ে তাঁর নজরে আসে, সেটির **মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে**।
ঘটনাটি জানাতে তিনি শিলচর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে সময় না থাকার কথা জানিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তাঁকে আবার অধ্যক্ষের কাছে ডেকে নেওয়া হয়। জুনাইদের দাবি, সেই সময় উপস্থিত এক মহিলা কর্মীও জুসটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, রক্তদাতাদের রিফ্রেশমেন্ট হিসেবে প্যাকেটজাত জুস দেওয়ার ক্ষেত্রে পণ্যের মেয়াদ ও সংরক্ষণ যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্যাকেটজাত পানীয়ের পরিবর্তে **বিশুদ্ধ পানীয় জল, ফল বা স্বাস্থ্যসম্মত রিফ্রেশমেন্ট** দেওয়ার ব্যবস্থার দাবিও তুলেছেন তিনি।
জুনাইদ আহমদ লঙ্করের দাবি, জুসটি কোথা থেকে কেনা ও সরবরাহ করা হয়েছিল, কতদিন ধরে মজুত ছিল এবং বিতরণের আগে কেন তার মেয়াদ পরীক্ষা করা হয়নি—এসব বিষয় তদন্ত করা হোক। একইসঙ্গে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রক্তদানের পর রক্তদাতাদের নিরাপদ ও মানসম্মত রিফ্রেশমেন্ট নিশ্চিত করা এবং খাদ্যসামগ্রীর **ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় যথাযথ নজরদারি** রাখার দাবি উঠেছে। অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই নজর।








