গুজরাটের কাণ্ডলায় অসমের ১৫০ টন ক্ষমতার ই-মিথানল প্রকল্প

গুজরাটের কাণ্ডলায় অসমের ১৫০ টন ক্ষমতার ই-মিথানল প্রকল্প

অসম-গুজরাট অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দেওয়ার দাবি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

গুয়াহাটি: অসমের শিল্প ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গুজরাটের কাণ্ডলায় প্রতিদিন ১৫০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ই-মিথানল প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে অসম ও গুজরাটের মধ্যে শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক পোস্টে বলেন, অসম-গুজরাটের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করে সবুজ উন্নয়ন এবং বহনক্ষম শিল্প বিকাশের পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কাণ্ডলায় প্রস্তাবিত ই-মিথানল প্রকল্প পরিষ্কার শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কম-কার্বন অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পটি অসম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (APL) এবং গুজরাটের দীনদয়াল পোর্ট অথরিটির যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠছে। দীনদয়াল পোর্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, কাণ্ডলায় ১৫০ টন/দিন ক্ষমতাসম্পন্ন ই-মিথানল প্রকল্পের জন্য APL-এর সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পটি বন্দরভিত্তিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগের অংশ।

ই-মিথানলকে অপেক্ষাকৃত কম-কার্বন জ্বালানি হিসেবে শিল্প ও বিশেষ করে সামুদ্রিক পরিবহণ ক্ষেত্রে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। কাণ্ডলায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে সবুজ জ্বালানি উৎপাদন ও বন্দরভিত্তিক ব্যবহারের পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে আরও বলেন, অসমের সম্পদ, দক্ষতা ও শিল্প সম্ভাবনাকে দেশের বৃহত্তর শিল্প পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ—দুই দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দীনদয়াল পোর্ট অথরিটি ও অসম পেট্রোকেমিক্যালসের কর্মকর্তারা কাণ্ডলার প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। সেই সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ১৫০ টন/দিন ক্ষমতার ই-মিথানল প্রকল্পের সাইট-সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ অসমের শিল্পায়নের পরিসরকে রাজ্যের ভৌগোলিক সীমার বাইরে জাতীয় স্তরের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে সবুজ জ্বালানি, শিল্পায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অসমের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!