মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় ও অ্যাম্বুলেন্স বিতর্ক, ৪ পুলিশকর্মী সাসপেন্ড; এবার ক্ষমা চাইলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী
ঘটনার পর বিশেষ পোস্ট হিমন্ত বিশ্ব শর্মার, জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে কোনও আপস নয়—কঠোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

শিলচর, ৩০ সেপ্টেম্বর:
মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় চলাচলের সময় শিলচরের রামনগর ISBT এলাকায় ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনায় ইতিমধ্যেই কাছাড় পুলিশের চার কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবার এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর কনভয়ের জন্য কোনও অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার জন্য রোগী এবং তাঁদের পরিবারের কাছে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন কোনও রোগীর জীবন কখনও তাঁর যাত্রার কারণে অগ্রাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। সাধারণ নাগরিকের যাতায়াত এবং জরুরি পরিষেবা যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় চলাচলের কারণে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে তাঁর নির্দেশ স্পষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কাছাড় পুলিশের পক্ষ থেকে চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, SI বিজয় গোস্বামী, SI শিবশঙ্কর দাস, LNK জাহুরুল ইসলাম এবং LNK কাওসার আহমেদ বড়ভূঁইয়া-কে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে।
ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক আলি আবদুল লস্কর-এর বক্তব্যও সামনে আসে। অন্যদিকে, কাছাড়ের SSP পার্থ প্রতিম দাস জানিয়েছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি খালি ছিল এবং কনভয়কে আগে যাওয়ার জন্য চালককে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর সর্বশেষ বার্তায় বিষয়টি নিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে—VIP কনভয়ের চলাচলের কারণে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।









