মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের জন্য অ্যাম্বুলেন্স আটক, কাছাড়ে ৪ পুলিশকর্মী সাসপেন্ড।

শিলচরে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ; সাসপেন্ডদের মধ্যে দুই SI ও দুই ল্যান্স নায়েক
শিলচর, ৩০ সেপ্টেম্বর:
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কনভয় যাওয়ার সময় শিলচরের রামনগর ISBT এলাকায় একটি ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সকে কিছুক্ষণ আটকে রাখার ঘটনায় কাছাড় পুলিশে চাঞ্চল্য। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার কর্তব্যরত পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই সাব-ইন্সপেক্টর (SI) এবং দুই ল্যান্স নায়েক (LNK)। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী সভায় যোগ দিতে তাঁর কনভয় শিলচরের রামনগর ISBT এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। পরে অ্যাম্বুলেন্সটি অপেক্ষা করে থাকার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটি রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় এলাকা অতিক্রম করছে।
ভিডিওতে প্রথমদিকে এক পুলিশকর্মীকে অ্যাম্বুলেন্সটিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে দেখা গেলেও পরে কর্তব্যরত আরেক পুলিশকর্মী সেটিকে থামিয়ে দেন। এরপর কনভয় চলে যাওয়া পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সটি অপেক্ষা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক আলি আবদুল লস্কর-এর বক্তব্যও সামনে আসে। পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে চালক জানান, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন। তবে তিনি প্রায় এক মিনিট ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করার পর অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এগিয়ে যান। চালকের বক্তব্যে ওই সময় অ্যাম্বুলেন্সে কোনও জরুরি রোগী ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনার পর কাছাড়ের SSP পার্থ প্রতিম দাস বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে কথা বলেন। প্রাথমিকভাবে SSP জানিয়েছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি খালি ছিল এবং কনভয়কে আগে যাওয়ার জন্য চালককে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তী পর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। কাছাড় পুলিশের সরকারি সাসপেনশন অর্ডারে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর চিরুকান্দি পয়েন্ট থেকে অসম সচিবালয়, বরাক ভ্যালি, শ্রীকোণা পর্যন্ত রুট-লাইনিং ও ট্রাফিক ডিউটিতে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে চার পুলিশকর্মীকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে যেতে দেওয়া হলেও একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হয়েছিল।
সাসপেন্ড হওয়া পুলিশকর্মীরা হলেন—
SI বিজয় গোস্বামী, I/C শ্রীকোণা পুলিশ ফাঁড়ি;
SI শিবশঙ্কর দাস, NH Way পুলিশ ফাঁড়ি;
LNK (UB)/476 জাহুরুল ইসলাম, কাটিগড়া থানা; এবং
LNK (UB)/976 কাওসার আহমেদ বড়ভূঁইয়া, ট্রাফিক ব্রাঞ্চ, শিলচর।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, সাসপেন্ড হওয়া পুলিশকর্মীদের অবিলম্বে শিলচর পুলিশ রিজার্ভে রিপোর্ট করতে এবং তাঁদের সরকারি কিট জমা দিতে বলা হয়েছে। সাসপেনশন চলাকালীন তাঁদের প্রতিদিনের রোল কল-এ উপস্থিত থাকতে হবে এবং যথাযথ অনুমতি ছাড়া সদর দফতর ত্যাগ করা যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা প্রাপ্য সাবসিস্টেন্স অ্যালাওয়েন্স বা জীবনধারণ ভাতা পাবেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, VIP কনভয়ের চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের যাতে অযথা অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, চার পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের সাসপেনশন বহাল থাকবে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহনের চলাচলের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই চার পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন বিভাগীয় তদন্তে ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি কীভাবে উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।








