পাথারকান্দির চান্দখিরায় ২য় স্ত্রীর লাঠির আঘাতে খুন শিলচরের ফেরিওয়ালা। ভোর রাতে পালিয়ে যাওয়ার পথে আটক স্ত্রী। 
পাথারকান্দি: পাথারকান্দি থানার অন্তর্গত চান্দখিরায় এক ফেরিওয়ালা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবকের নাম আব্দুল কাদির লস্কর। তিনি শিলচরের মধুরবন্দ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রাসনা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পাথারকান্দি থানার পুলিশ।
রাসনা জানান, ত্রিপুরার ধর্মনগরের পশ্চিম সাকাইবাড়ির বাসিন্দা রাসনা বেগমের সঙ্গে রেলে যাত্রার সময় আব্দুল কাদিরের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে কাজির মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর দেড় মাস ধরে তাঁরা পাথারকান্দির চান্দখিরায় একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছিলেন। আব্দুল কাদির ফেরি করে কবিরাজি ওষুধ বিক্রি করতেন। তাঁর শিলচরে আরও এক স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রবিবার রাতে রাসনা বেগম তাঁর স্বামীকে ছুরিকাঘাত ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলে আব্দুলের মৃত্যু হয়। এরপর সোমবার ভোররাতে ঘরে তালা লাগিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। এরপর ভেতরে আব্দুল কাদিরের মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে রাসনা বেগমকে আটক করে রাখেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পাথারকান্দি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও ২লাঠি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মেজিস্ট্রেটের উপস্থিতে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাশাপাশি রাসনা বেগমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে আব্দুল কাদিরকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন রাসনা বেগম। তার অভিযোগ, আব্দুল তাকে বিয়ের পর শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন চালাতো। এদিন আব্দুল নিজে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তাঁকে গলা চেপে মেরে ফেলার চেষ্টা করলে তিনি লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তিকে কেন্দ্র করে ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সম্পূর্ণ রহস্য ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।








