মুম্বাইয়ে চাকরির প্রলোভন, মিজোরামে যুবককে ১০ লক্ষ টাকায় ‘বন্ধক’ রাখার অভিযোগ

হাইলাকান্দিতে থানায় মামলা, নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারের জন্য পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার
হাইলাকান্দি, ২৭ সেপ্টেম্বর: মুম্বাইয়ে কাজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাইলাকান্দির এক যুবককে মিজোরামে নিয়ে গিয়ে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অন্য ব্যক্তিদের কাছে ‘বন্ধক’ রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দি সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিখোঁজ যুবকের মা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, হাইলাকান্দি জেলার চেপটিব্রজপূর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তুফা আহমেদ মাঝারর্ভূঁইয়াকে মুম্বাইয়ে কাজে নিযুক্ত করার কথা বলে গত ২১ সেপ্টেম্বর সঙ্গে নিয়ে বের হন বাহাদুরপুর দ্বিতীয় খণ্ড এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন লস্কর।
পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই মোস্তুফার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। টানা দু’দিন তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক পাঁচটা নাগাদ একটি অপরিচিত নম্বর থেকে মোস্তুফা তাঁর মাকে ফোন করেন বলে পরিবারের দাবি। ফোনে তিনি জানান, তাঁকে মুম্বাইয়ে না নিয়ে গিয়ে মিজোরামের লংলাই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে।
পরিবারের কাছে মোস্তুফা অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন তাঁকে মিজোরামে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তির কাছে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ‘বন্ধক’ রেখে ওই টাকা নিয়ে চলে গিয়েছেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও মোস্তুফা পরিবারের কাছে জানিয়েছেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর মোস্তুফার মা সায়রা বেগম মাঝারর্ভূঁইয়া হাইলাকান্দি সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তাঁর ছেলেকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে মোস্তুফার মা ও বোন হাইলাকান্দি পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাঁকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যুবকটি বর্তমানে ঠিক কোথায় রয়েছেন এবং তাঁকে উদ্ধারের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতির ওপর নজর রাখছে পরিবার।
অভিযোগে অভিযুক্ত জাকির হোসেন লস্করের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। মোস্তুফাকে উদ্ধারের পাশাপাশি এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।








