২০০৬ সালের মালয়েশীয় প্রকৌশলীর আত্মহত্যা: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তদন্তে আইনি বাধা নেই
তিরুবনন্তপুরম, ৬ অক্টোবর: প্রায় দুই দশক আগের একটি ঘটনায় ভারতের বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফের তদন্তের পথ খুলেছে কেরল সরকার। ২০০৬ সালে কেরলের তৎকালীন পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের (PWD) সচিব থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে মালয়েশীয় প্রকৌশলী লি সি বিন (Lee See Been)-এর আত্মহত্যার ঘটনাটিও যুক্ত রয়েছে।
কেরলের ডিরেক্টর জেনারেল অব প্রসিকিউশন (DGP) টি. আসাফ আলি ৪ অক্টোবর দেওয়া আইনি মতামতে জানিয়েছেন, শুধু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে মতামতে বলা হয়েছে।
কী ঘটেছিল ২০০৬ সালে?
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন মালয়েশীয় নাগরিক লি সি বিন, যিনি PATI-BEL নামে একটি Indo-Malaysian যৌথ উদ্যোগের চিফ প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কেরল স্টেট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (KSTP)-এর কাজে যুক্ত ছিলেন। KSTP-এর অধীনে MC Road পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজ চলছিল।
২০০৬ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে লি সি বিনের আত্মহত্যার খবর সামনে আসে। তাঁর কথিত আত্মহত্যার নোটে তৎকালীন PWD সচিব জ্ঞানেশ কুমারের নাম ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটে সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, বিল পরিশোধে বিলম্ব এবং ঘুষ দাবির মতো অভিযোগ থাকার কথাও প্রকাশ্যে আসে। তবে সাম্প্রতিক তদন্ত সংক্রান্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট নোটটি বর্তমান কেরল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে দেখেননি; নোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।
আগেও হয়েছিল ভিজিল্যান্স তদন্ত
লি সি বিনের মৃত্যুর পর ২০০৬ সালেই কেরলের Vigilance and Anti-Corruption Bureau (VACB) প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছিল। কিন্তু সেই তদন্ত আর এগোয়নি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি পুরনো তদন্তের কিছু নথি খুঁজে পাওয়া নিয়েও সমস্যা হয়েছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এরপর ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে কেরল হোম ডিপার্টমেন্ট পুরনো ভিজিল্যান্স তদন্তের ফাইল তলব করে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামেশ চেন্নিথালা VACB-কে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযোগের মধ্যে KSTP-এর কাজ বণ্টন, সরকারি অর্থের সম্ভাব্য ক্ষতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ও রয়েছে।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও খতিয়ে দেখার পরামর্শ
DGP-এর আইনি মতামতে লি সি বিনের মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং কথিত আত্মহত্যার নোটের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে IPC-এর ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা বিবেচনা করা যেতে পারে বলে আইনি মতামতে উল্লেখ রয়েছে। এই ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল এবং DGP-এর মতে, সেই কারণে শুধু সময় পেরিয়ে যাওয়ার যুক্তিতে মামলাটি আটকে যায় না।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইনি মতামত নিজে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণের জন্য তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
CEC পদ নিয়ে আইনি প্রশ্ন
কেরল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগটি জ্ঞানেশ কুমারের ২০০৬ সালে PWD সচিব থাকাকালীন সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে। তাই বর্তমানে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে থাকলেও ওই পুরনো ঘটনার তদন্তে তাঁর পদ কোনও স্বয়ংক্রিয় আইনি সুরক্ষা দেয় না বলে সরকার দাবি করেছে।
ফলে প্রায় ২০ বছর পুরনো লি সি বিনের আত্মহত্যা, KSTP প্রকল্পের অভিযোগ এবং তৎকালীন ভিজিল্যান্স তদন্ত ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এখন তদন্তে নতুন কী তথ্য বা প্রমাণ সামনে আসে, তার ওপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
সূত্র: Onmanorama, The New Indian Express, Indian Express, NDTV ও India Today







