CAG রিপোর্ট ঘিরে মণিপুরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন মেঘাচন্দ্রের।

মণিপুরে ৮,৯২৭ কোটি বাজেট অব্যবহৃত থাকার দাবি; ঋণ, মূলধনী ব্যয় ও অসম্পূর্ণ প্রকল্প নিয়েও সরকারের কাছে জবাব চাইল কংগ্রেস।

CAG রিপোর্ট ঘিরে মণিপুরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন মেঘাচন্দ্রের।

ইম্ফল, ৩ অক্টোবর: মণিপুরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস বিধানসভা দলের (CLP) নেতা কেইশাম মেঘাচন্দ্র সিং। শনিবার ইম্ফলের কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি CAG-এর ২০২৪-২৫ সালের State Finances Audit Report-এর বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে রাজ্যের বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থের ব্যবহার, ঋণ এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মেঘাচন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মণিপুর সরকারের মোট বাজেট বরাদ্দ ছিল ₹৩৭,৩৯২.৬৬ কোটি। এর মধ্যে ₹৮,৯২৭.৫৫ কোটি, অর্থাৎ প্রায় ২৩.৮৮ শতাংশ, খরচ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর প্রশ্ন, উন্নয়ন, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণের মতো খাতে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এত বিপুল অর্থ অব্যবহৃত থাকল কেন।
মূলধনী ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মূলধনী খাতে ₹৮,৯৮৯.৬০ কোটি বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত ব্যয় হয়েছে মাত্র ₹২,৭০৪.২৩ কোটি। অর্থাৎ প্রায় ₹৬,২৮৫ কোটি বরাদ্দ অব্যবহৃত থেকে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
কেন্দ্রীয় অনুদানের ক্ষেত্রেও বাজেট ও প্রকৃত প্রাপ্তির মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে বলে মেঘাচন্দ্র দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে ₹১৬,০১৫.৮৫ কোটি পাওয়ার হিসাব করা হলেও প্রকৃত প্রাপ্তি ছিল ₹৫,৪৭৩.২১ কোটি। ফলে প্রায় ₹১০,৫৪২.৬৪ কোটি ব্যবধানের কারণ রাজ্য সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
ঋণের বোঝা নিয়েও প্রশ্ন
রাজ্যের ঋণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেঘাচন্দ্র। তাঁর দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মণিপুরের মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ₹১১,৫৯৯.০৮ কোটি। এর মধ্যে ₹৯,৪২০.৪১ কোটি, অর্থাৎ প্রায় ৮১.২২ শতাংশ, আগের ঋণের মূলধন পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের শেষে রাজ্যের মোট ঋণ ও অন্যান্য দায় ছিল ₹১৮,৮৭১.৭৯ কোটি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে বেড়ে ₹২০,৮৪৬.৮৮ কোটি হয়েছে। একই সময়ে সুদ বাবদ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ₹১,০২২.২৩ কোটি বলে তিনি দাবি করেন।
১৩৮টি প্রকল্প অসম্পূর্ণ
উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস CLP নেতা। তাঁর দাবি, ১৩৮টি প্রকল্প এখনও অসম্পূর্ণ, যদিও এসব প্রকল্পে ইতিমধ্যে ₹৪৭৩.৫৩ কোটি ব্যয় হয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রকল্পের খরচ আরও বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এছাড়া Relief and Disaster Management খাতেও ₹২২৯.৯৪ কোটি সাশ্রয় বা অব্যবহৃত থাকার বিষয়টি মেঘাচন্দ্র তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে থাকা মণিপুরে এই খাতে অর্থ অব্যবহৃত থাকার কারণও তিনি জানতে চান।
মেঘাচন্দ্র বলেন, CAG কোনও বিরোধী রাজনৈতিক দল নয়; এটি সরকারি অর্থের সাংবিধানিক অডিটর। তাই অডিট রিপোর্টে উঠে আসা বিষয়গুলি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একদিকে যখন রাজ্য সরকার ঋণ গ্রহণ করছে, অন্যদিকে বরাদ্দ করা বিপুল অর্থ কেন খরচ হচ্ছে না। ২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী রাজ্যের ঋণ ও দায় ₹৩২,৫৯০.৫৭ কোটি পর্যন্ত পৌঁছেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এই আর্থিক দায় কীভাবে সামলানো হবে, সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে রোডম্যাপ দাবি করেন।
মেঘাচন্দ্রের বক্তব্যের মূল প্রশ্ন—বাজেটে অর্থ বরাদ্দ, ঋণ গ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় সহায়তার পাশাপাশি যদি বিপুল অর্থ অব্যবহৃত থাকে, তাহলে তার কারণ কী এবং সেই অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। CAG-এর অডিট পর্যবেক্ষণ এবং কংগ্রেস নেতার রাজনৈতিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি সরকারের বিস্তারিত জবাবই এই বিতর্কের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: ৩ অক্টোবর সরকারি ছুটি ঘোষণা ভোটগ্রহণের দিন বন্ধ থাকবে রাজ্য সরকারি কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান শিলচর, ১ অক্টোবর: শিলচর পুরনিগমের নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ৩ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, শিলচর পুরনিগমের আওতাধীন এলাকায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অসম সরকারের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওইদিন শিলচর পুরনিগম এলাকার অন্তর্গত সমস্ত রাজ্য সরকারি কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ২৫ ধারা এবং ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ৮ জুন ১৯৫৭-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুরনিগম এলাকার সমস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, শিলচর পুরনিগমের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩ অক্টোবর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ভোটদাতাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটদানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, ভোটের আগে শিলচর পুরনিগম এলাকায় ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা পর্বও কার্যকর হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

error: Content is protected !!