৪ জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের দাবিতে একাই সত্যাগ্রহ আন্দোলন অখিল গগৈর।

হাজার হাজার পরিবার এখনও বঞ্চিত বলে দাবি অখিলের। ১৫ হাজার টাকা করেঅন্তর্বর্তী সহায়তা দ্রুত দেওয়ার দাবি;

বিধানসভা চত্বরে অনির্দিষ্টকালের সত্যাগ্রহে শিবসাগরের বিধায়ক।

৩ অক্টোবর: অসমের উজানাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরকারের ঘোষিত আর্থিক সহায়তা দ্রুত প্রদানের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের সত্যাগ্রহে বসেছেন শিবসাগরের বিধায়ক তথা রাইজর দল সভাপতি অখিল গগৈ। গান্ধী জয়ন্তীর দিন, ২ অক্টোবর থেকে অসম বিধানসভা চত্বরে তিনি এই আন্দোলন শুরু করেন।

অখিল গগৈয়ের দাবি, শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট—এই চার জেলার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বন্যাকবলিত পরিবার এখনও সরকারের ঘোষিত এককালীন ₹১৫,০০০ অন্তর্বর্তী আর্থিক সহায়তা পাননি। পাশাপাশি শিবসাগর ও চরাইদেওর বন্যাকবলিতদের জন্য ঘোষিত অতিরিক্ত ₹১০,০০০ বিশেষ সহায়তাও এখনও পৌঁছায়নি বলে তিনি দাবি করেছেন।

অখিল গগৈ জানিয়েছেন, চার জেলার বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ₹১০ লক্ষ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তাঁর রয়েছে। পাশাপাশি বন্যার কারণ খতিয়ে দেখতে সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। সরকার তাঁর দাবিগুলি পূরণ না করা পর্যন্ত সত্যাগ্রহ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিধায়ক।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, সরকার বন্যাকবলিতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষার জন্য শিক্ষকরা কাজ করছেন এবং প্রায় ৫৫ হাজার পরিবারকে ইতিমধ্যেই সহায়তার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে চার জেলার বন্যাকবলিত পরিবারগুলিকে ১৫,০০০ করে অন্তর্বর্তী সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে কয়েক দফায় সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়েছে।

অখিল গগৈয়ের বর্তমান আন্দোলনের সূত্রপাত ২৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির ছাচল ধরনা ময়দানে আয়োজিত বন্যাকবলিতদের সভা থেকে। সেখানে দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়ে সরকারকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর ২ অক্টোবর থেকে বিধানসভা চত্বরে অনির্দিষ্টকালের সত্যাগ্রহ শুরু করেন তিনি।

ফলে একদিকে সরকারের দাবি—ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত করে সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে; অন্যদিকে অখিল গগৈয়ের অভিযোগ—হাজার হাজার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনও সহায়তা থেকে বঞ্চিত।








