Worker’s Leg Seriously Injured in Block Factory Accident

ব্লক কারখানায় দুর্ঘটনায় শ্রমিকের পা গুরুতর জখম

চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভিটা বন্ধক রাখার অভিযোগ, ঠিকাদার ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

উদারবন্দ, ২৭ সেপ্টেম্বর: ব্লক তৈরির কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনের বেল্টে পা আটকে গুরুতর আহত হলেন এক শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে কাছাড় জেলার উদারবন্দের পানগ্রাম প্রথম খণ্ডের মিদাস ব্লক ফ্যাক্টরিতে। আহত শ্রমিকের অভিযোগ, চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তা পূরণ করা হয়নি। ফলে চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁকে নিজের ঘরের ভিটা বন্ধক রাখতে হয়েছে।

আহত শ্রমিকের নাম জামাল উদ্দিন বড়ভূঁইয়া। তাঁর বাড়ি হাইলাকান্দি জেলার কাটলিছড়া এলাকায়। পরিবারের দাবি, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কারখানায় কাজ করার সময় হঠাৎ ব্লক তৈরির মেশিনের বেল্টে তাঁর একটি পা আটকে যায়। মেশিনের চাপে পায়ের বেশ কিছু অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সহকর্মী ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে প্রথমে উদারবন্দ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা করাতে হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আহত শ্রমিকের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর ঠিকাদার আলী আহমেদ তাঁর চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে মাত্র ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। চিকিৎসার খরচ মেটাতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই অর্থের জোগান দিতে নিজের ঘরের ভিটা বন্ধক রাখতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ঘটনার পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর উদারবন্দ থানায় কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারখানায় শ্রমিকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আহত শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার খরচ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে ঠিকাদার ও কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!