গুয়াহাটিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা-যোগের অভিযোগে দুইজন গ্রেফতার, সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

গুয়াহাটিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা-যোগের অভিযোগে দুইজন গ্রেফতার, সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

গুয়াহাটি, ৫ অক্টোবর: পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভকে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য সরবরাহের অভিযোগে গুয়াহাটিতে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে অভিষেক কুমার সিং (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গুয়াহাটির সাতগাঁও থানার অধীন গান্ধীনগর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বিহারের পূর্ব চম্পারণের বাসিন্দা। তেজপুরের গজরাজ কোরের সামরিক গোয়েন্দা শাখা থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে STF তদন্ত শুরু করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিষেকের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, SIM কার্ড এবং কিছু নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভের কাছে নিরাপত্তা বাহিনী সংক্রান্ত গোপন তথ্য পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে STF-এর দাবি। এ ঘটনায় STF থানায় Case No. 09/2026 নথিভুক্ত হয়েছে।

এরপর একই তদন্তে রীতেশ কুমার সিং (৩৯) নামে আরও এক ব্যক্তিকে সাতগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, রীতেশ নাকি অভিষেককে নিরাপত্তা বাহিনী সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছিলেন। রীতেশের বাড়ি বিহারের বেগুসরাইয়ে বলে জানা গেছে।

এদিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৪ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতীয় সেনার গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য পাচারের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাজওয়ান, যিনি অবসরের পরও চুক্তিভিত্তিকভাবে সেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

এই গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের নাম ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নানা মন্তব্য ছড়িয়েছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের নাম মুসলিম হলে ঘটনাটি নিয়ে আরও বেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হতো। তবে এই ধরনের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতামত, পুলিশের তদন্তের তথ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!