
নয়াদিল্লি, ৩ অক্টোবর: গবাদি পশু পরিবহণের বৈধ নথিপত্র না থাকলেই সেগুলি জবাইয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। একটি মামলার রায়ে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
ছত্তীসগঢ়ে ৩২টি বলদ বেআইনি ভাবে পরিবহণের অভিযোগে সুরভ বাজাজ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ছত্তীসগঢ়ের Agricultural Cattle Preservation Act, 2004-এর অধীনে মামলা হয়। নিম্ন আদালত তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার সাজা দেয়। পরে হাই কোর্টও সেই সাজা বহাল রাখে।
এরপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছলে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ নিম্ন আদালত ও হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত বাতিল করে অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দেয়। আদালতের বক্তব্য, শুধু পরিবহণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকার ভিত্তিতে গবাদি পশুগুলিকে জবাইয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে অনুমান করা যায় না।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট আইনে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে গবাদি পশুগুলিকে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিবহণ করা হচ্ছিল, অথবা সেগুলিকে জবাই করা হতে পারে—এমন বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। শুধু একজন হেড কনস্টেবলের অনুমানকে এর যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
মামলায় পশু চিকিৎসক এবং একটি গোশালা কমিটির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল যে উদ্ধার হওয়া বলদগুলি কৃষিকাজে ব্যবহারের উপযোগী। এই পরিস্থিতিতে সেগুলি জবাইয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই বলেই মত দেয় শীর্ষ আদালত।
আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, অন্য কোনও আইনের অধীনে পরিবহণের নথিপত্র না থাকলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই নথির অভাবকে সরাসরি গবাদি পশু জবাইয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের মূল কথা—বৈধ নথিপত্র না থাকা এবং জবাইয়ের উদ্দেশ্য প্রমাণিত হওয়া, দু’টি এক বিষয় নয়।
SOURCE:AB ONLINE








