ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, জানালেন কারণ
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন বিরোধীরা, সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার পরামর্শ।

**নয়াদিল্লি, ১২ অক্টোবর:** ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) বিচারপতি সূর্য কান্ত। সোমবার, ১২ অক্টোবর বিরোধী নেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা থাকলেও, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করা বিচারিক শিষ্টাচার ও ক্ষমতার পৃথকীকরণের সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
*দ্য প্রিন্ট* ও *হিন্দুস্তান টাইমস*-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধান বিচারপতির কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগ জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। তবে এগুলি বিরোধীদের অভিযোগ; অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখা যায় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার প্রধান বিচারপতির কাছে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি ওই রাতেই জবাব দিয়ে বৈঠকে সম্মতি দিতে না পারার কারণ জানান। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায়, স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিবর্তে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা। কোনও সাধারণ নাগরিক কিংবা নির্বাচিত প্রতিনিধির আবেদন আদালতে গ্রহণযোগ্য। প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী যা প্রাপ্য, আদালত তা বিবেচনা করবে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক না হওয়ায় ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের দিকে প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উদ্বেগের নিষ্পত্তি, কথিত নির্বাচনী অনিয়মের তদন্ত এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও সামনে এসেছে।








