নরসিংপুরে বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে গিয়ে অঘটন! বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খুঁটি থেকে পড়ে গুরুতর আহত অস্থায়ী কর্মী, লাইনম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নরসিংপুরে বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে গিয়ে অঘটন! বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খুঁটি থেকে পড়ে গুরুতর আহত অস্থায়ী কর্মী, লাইনম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


কাবুগঞ্জ, ১১ অক্টোবর: কাছাড় জেলার নরসিংপুরে বিদ্যুতের লাইনে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক অস্থায়ী বিদ্যুৎকর্মী। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খুঁটি থেকে নিচে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন দীপক চাষা নামের ওই যুবক। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁর আঘাত গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট লাইনম্যানের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টা নাগাদ নরসিংপুর ক্ষুদ্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিপরীতে বিদ্যুতের লাইনে কাজ করতে খুঁটিতে ওঠেন অস্থায়ী কর্মী দীপক চাষা। অভিযোগ, সেই সময় বিদ্যুৎ লাইনে সংযোগ চালু ছিল। কন্ট্রোল রুম থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেই জলিল উদ্দিন নামের এক লাইনম্যান তাঁকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


খুঁটিতে উঠে কাজ শুরু করার পরই বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসেন দীপক। মুহূর্তের মধ্যে তিনি খুঁটি থেকে নিচে ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়রা নরসিংপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট লাইনম্যান জলিল উদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও নতুনবাজার এলাকায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে অন্য এক লাইনম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরপর এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ সামনে আসায় বিদ্যুৎকর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কাজের আগে নির্ধারিত সুরক্ষাবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
শুধু তাই নয়, জলিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নাম করে এবং স্মার্ট মিটারে রূপান্তরের পর অর্থ আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ দীপক চাষার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ধলাই থানায় মামলা দায়ের করা হবে। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে যাওয়ার আগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল কি না? কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা হয়েছিল কি না, কন্ট্রোল রুমের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
এখন দেখার, এই ঘটনার পর বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অস্থায়ী বিদ্যুৎকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!