কুমারঘাটে কোটি টাকার ফেনসিডিল উদ্ধার, নেপথ্যে কারা?

প্রভাবশালীদের চাপেই কি আড়ালে রাঘববোয়ালরা? উঠছে প্রশ্ন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি।
কুমারঘাট, ত্রিপুরা: কুমারঘাটে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকার বলে জানা গেছে। তবে এত বড় চালানের নেপথ্যে কারা রয়েছে, কোথা থেকে চালানটি এসেছে এবং এর গন্তব্যই বা কোথায় ছিল—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

ঘটনায় চালান বহনকারী বা সরাসরি জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, এত বড় পরিমাণ ফেনসিডিলের পিছনে থাকা মূল চক্রের হদিস মিলবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় মহলে আরও প্রশ্ন—শুধু বাহক বা ছোটখাটো কারবারিদের গ্রেফতার করেই কি তদন্ত শেষ হয়ে যাবে, নাকি অর্থের উৎস, পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং মূল সরবরাহকারীদেরও চিহ্নিত করা হবে?
ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় বড় ফেনসিডিল পাচার মামলায় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে আগরতলাগামী ট্রেন থেকে প্রায় ১.০৭ লক্ষ ফেনসিডিলের বোতল উদ্ধারের মামলায় ত্রিপুরা ক্রাইম ব্রাঞ্চ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল; তদন্তে এক অভিযুক্তকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তিনি পলাতক ছিলেন।

ফলে কুমারঘাটের সাম্প্রতিক উদ্ধারকাণ্ডেও তদন্ত কতদূর এগোয়, বিশেষ করে মূল মদতদাতা, অর্থের জোগানদাতা ও সরবরাহকারী চক্রের কাছে তদন্তকারীরা পৌঁছাতে পারেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
প্রভাবশালী কোনও মহলের চাপ বা হস্তক্ষেপের কারণে তদন্তে কোনও ব্যক্তি বা চক্র আড়ালে থেকে যাচ্ছে—এমন কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তাই এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ফেনসিডিল পাচারের মূল চক্রকে চিহ্নিত করা হোক।








