মকইভাঙা সেতুতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ।

মকইভাঙা সেতুতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ।

ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের কড়া নির্দেশ; ৬০ দিনের জন্য যানবাহন ও পথচারী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, বিকল্প পথে যানবাহন ঘোরানোর নির্দেশ।

শ্রীভূমি: মকইভাঙার ভাঙা সেতু ঘিরে বড়সড় পদক্ষেপ নিল শ্রীভূমি জেলা প্রশাসন। সেতুটির কাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রযুক্তিগত দফতরের বিশেষজ্ঞরা রিপোর্ট দেওয়ার পর এবার ওই সেতুর উপর দিয়ে সব ধরনের যানবাহন ও পথচারী চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শ্রীভূমির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী, IAS ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে BNSS-এর ১৬৩ ধারার অধীনে এই নির্দেশ জারি করেছেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ৬০ দিন বহাল থাকবে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা সংশোধন, বাড়ানো অথবা আগেই প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

‘যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে’ সেতু

জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত দফতরের বিশেষজ্ঞরা মকইভাঙার ভাঙা সেতুটিকে কাঠামোগতভাবে দুর্বল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন। যানবাহনের চলাচলের ফলে তৈরি হওয়া গতিশীল ভারের কারণে সেতুটিতে আচমকা কাঠামোগত বিপর্যয় বা ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

এই অবস্থায় সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন, যাত্রী কিংবা পথচারীদের চলাচল অব্যাহত থাকলে মানুষের জীবন, নিরাপত্তা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে বলে প্রশাসন মনে করছে।

ভারী ট্রাক থেকে মোটরসাইকেল—সবই নিষিদ্ধ

নতুন নির্দেশে শুধু ভারী যানবাহন নয়, ভারী পণ্যবাহী যান, হালকা মোটরযান, দুই-চাকার যানবাহন এবং পথচারী—সবার চলাচলই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, পূর্বের ভারী যানবাহন নিষেধাজ্ঞার তুলনায় এবার প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সেতুর উপর দিয়ে কোনও ধরনের যানবাহন বা মানুষকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বিকল্প পথে যানবাহন চলাচল

জনসাধারণের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রশাসন বিকল্প রুট নির্ধারণ করেছে।

ভারী যানবাহন (H​​MV ও তার ঊর্ধ্ব শ্রেণি)-কে NH-6 এবং অসম মালা প্রকল্পের অধীন পঞ্চগ্রাম-মকইভাঙা হয়ে হাইলাকান্দি সংযোগকারী ২-লেনের সড়কপথ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে LMV এবং তার নিচের শ্রেণির যানবাহন-কে দরগাবাজার রোড হয়ে শ্রীগৌরী-মকইভাঙা বিকল্প পথে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেতুর দুই প্রান্তে ব্যারিকেড ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি

সেতুর দুই প্রান্তে অবিলম্বে শক্তিশালী শারীরিক ব্যারিকেড, প্রতিফলকযুক্ত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড এবং পর্যাপ্ত ফ্লাডলাইট বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। NHIDCL-এর সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং PWD-এর ইঞ্জিনিয়ারদের এই ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি শ্রীভূমির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা

জেলা প্রশাসনের আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কেউ এই নির্দেশ অমান্য বা লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ২২৩ ধারায় মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

শ্রীভূমির SSP এবং District Transport Officer (DTO)-কেও নির্দেশটির কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড বসানো এবং পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মকইভাঙা সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশের ফলে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এল। এখন সেতুটির প্রকৃত কাঠামোগত মেরামতি বা স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে চালু রাখা যায়, সেদিকেও নজর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!