মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও সরকারি সময়সীমা পেরিয়েও সোনাই সার্কেল অফিসে রাতের অন্ধকারে কাজ!

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও সরকারি সময়সীমা পেরিয়েও সোনাই সার্কেল অফিসে রাতের অন্ধকারে কাজ!

রাত ৮টা পর্যন্ত জ্বলল অফিসের আলো, রেকর্ড রুমে নথিপত্র নিয়ে কর্মব্যস্ততায় কর্মীরা—উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

*সোনাই, ২৪ সেপ্টেম্বর:* সরকারি দপ্তরের নির্ধারিত কর্মসময়ের পরেও কাছাড় জেলার সোনাই রাজস্ব চক্র কার্যালয়ে রাত পর্যন্ত কাজ চলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরও অফিসের আলো জ্বলতে দেখা যায় এবং কার্যালয়ের ভেতরে কর্মীদের নথিপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সময় তখন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। সরকারি কার্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মসময় শেষ হওয়ার পরও সোনাই সার্কেল অফিসের কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

অভিযোগ, রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ চলছিল। কার্যালয়ের রেকর্ড রুমের দরজাও খোলা অবস্থায় দেখা যায়। ওই দরজায় ‘অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ’ লেখা থাকা সত্ত্বেও ভেতরে নথিপত্র নিয়ে কর্মরত কয়েকজনকে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

এদিকে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রাঙ্গণে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে। তবে তাঁরা কারা ছিলেন এবং কী কারণে সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে—নির্ধারিত কর্মসময়ের পরেও ঠিক কী কারণে সরকারি কার্যালয়ে কাজ চলছিল? রাত পর্যন্ত কোন ধরনের সরকারি কাজ বা নথি সংক্রান্ত কার্যক্রম চলছিল, তার অনুমোদন ছিল কি না, এবং রেকর্ড রুম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে রাতের এই কার্যক্রমকে অনিয়ম বা গোপনীয় কাজ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারি কাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের পরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে থাকার প্রশাসনিক অনুমতি থাকতে পারে।

তাই সোনাই রাজস্ব চক্র কার্যালয়ে ওই রাতে কী কারণে কাজ চলছিল, কার অনুমতিতে রেকর্ড রুম খোলা হয়েছিল এবং সেখানে কী ধরনের নথি নিয়ে কাজ হচ্ছিল—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি উঠেছে।

জনস্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হলে রাত পর্যন্ত সরকারি অফিসে কাজ চলার কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়ও দূর হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!