আমজুর নদীতে এক সপ্তাহে দু’বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ। জলজ প্রাণী ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি।

সোনাই, ২৪ সেপ্টেম্বর:** আমজুর নদীতে ফের বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই নদীতে দু’বার বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে একটি অসাধু চক্র এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর নদীতে জল কমে এলে রাতের অন্ধকারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ঘটনা ঘটে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই বেআইনি ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের ফলে নদীর জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাসিন্দাদের দাবি, একবার নদীতে বিষ প্রয়োগের পর দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত নদীতে মাছের উপস্থিতি কমে যায়। বিষাক্ত পানির কারণে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এমনকি ওই পানি পান করে হাঁস মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে নদীর পানি ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আমজুর নদীর মাছের ওপর নির্ভর করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। নদী থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করেই সংসার চালান স্থানীয় বহু মৎস্যজীবী। কিন্তু বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে মাছ শিকারের কারণে একদিকে যেমন নদীর মাছের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে তেমনি জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন ওই পরিবারগুলি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাতের অন্ধকারে কারা নদীতে বিষ প্রয়োগ করছে এবং বছরের পর বছর এই বেআইনি কর্মকাণ্ড কীভাবে চলছে? বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে নদীতে বিষ প্রয়োগ বন্ধে জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, নদীতে নিয়মিত নজরদারি ও টহলের ব্যবস্থা এবং নদীর পানি ও জলজ প্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন।

স্থানীয়দের বক্তব্য, গত এক সপ্তাহে দু’বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি আর অবহেলা করার সুযোগ নেই। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে আমজুর নদীর জলজ পরিবেশ এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা আরও বিপন্ন হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

और पढ़ें

error: Content is protected !!